শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্যই সরকারের নানা উদ্যোগ। কারণ ভবিষ্যতে তারাই দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে।
সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিটি উদ্যোগের লক্ষ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলা। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং পাঠ্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তি ও বাস্তবমুখী দক্ষতার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এতে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও নেতৃত্ব তৈরিতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ২৯ হাজার ৬০০-এর বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একযোগে তিনটি করে গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে একদিনেই প্রায় ৯০ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকে বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল হতে হবে। নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কারিগর। শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলোর সমাধান ধাপে ধাপে করা হবে।
অনুষ্ঠানে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচির বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। বিজয়ী শিক্ষার্থী দলকে ২০ হাজার টাকার চেক, পদক ও সনদ এবং বিজয়ী শিক্ষকদের ৩০ হাজার টাকার চেক ও সনদ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এবারের জাতীয় প্রদর্শনীতে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাঁদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ প্রদর্শন করেন।
