জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের একাধিক প্রকল্প।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত আটটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় তিনটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন, বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প।
এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদিত হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনও অনুমোদন পেয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের পাশাপাশি বেগমগঞ্জ ও সুনেত্র এলাকায় একটি মূল্যায়ন কূপ এবং দুটি অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার নতুন ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনও একনেকে অনুমোদন পেয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, পরিকল্পনামন্ত্রী এরই মধ্যে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন, বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট উন্নয়ন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন, বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় বিটাক কেন্দ্র স্থাপনের মতো উদ্যোগ রয়েছে।
একনেক সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
