শাহজালালে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় নজরদারিতে বিমানের একাধিক কর্মী

কাস্টমস সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে পাঁচ বছরে প্রায় ৩ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা মূল্যের ৯০২ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। তবে নিয়মিত স্বর্ণ জব্দ হলেও চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করা এখনো সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

2 Min Read

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৮ কেজির বেশি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্বর্ণের চালান খালাসের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল বিভাগের চার কর্মীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের নিবিড় নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

তবে তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হ্যাঙ্গারে নেওয়ার পর সুবিধাজনক সময়ে স্বর্ণগুলো খালাসের পরিকল্পনা ছিল। তবে এর আগেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে চালানটি জব্দ করা হয়।

গত ২ জুলাই দুবাই থেকে আসা বিমানের একটি ফ্লাইটের কার্গো হোল্ডে অভিযান চালিয়ে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় ডিজিএফআই, এভিয়েশন সিকিউরিটি, কাস্টমস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা বিভাগ।

প্রাথমিক তল্লাশিতে প্রায় ১৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার হলেও পরে বিস্তারিত অনুসন্ধানে আরও স্বর্ণ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে জব্দ হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম।

তদন্তকারীদের ধারণা, এ বছরের মার্চে একই কৌশলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আরেকটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার মিল রয়েছে। একই চক্র একই রুট ব্যবহার করে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই ঘটনার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র অনুসন্ধান করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইট পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল, পরিচ্ছন্নতা, কেবিন ক্রু ও পাইলটদের তালিকা চেয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে চিঠি দিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ফ্লাইটটি সরেজমিন পরিদর্শনের অনুমতিও চাওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) শরিফ হোসেন বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। তবে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

- Advertisement -

তিনি বলেন, যেভাবে স্বর্ণ আনা হয়েছে, তাতে অভ্যন্তরীণ সহযোগিতার সন্দেহ রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারও নাম প্রকাশ করা হবে না।

বিমানবন্দর থানা সূত্র জানায়, ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত স্বর্ণ চোরাচালান-সংক্রান্ত ৬৯৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই হয়েছে ২৭টি মামলা। বর্তমানে ৫০টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *