খামেনি অধ্যায়ের সমাপ্তি: মৃত্যু নিশ্চিত করল ইরানি বার্তা সংস্থা

নিউজনেক্সট অনলাইন :

নিউজনেক্সট অনলাইন :

3 Min Read
ছবি - সংগৃহীত।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য প্রকাশ করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ এই দুটি সংস্থাই খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

তবে কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে বা এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কী তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে একযোগে হামলা চালায়। বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালিত হয়।

হামলার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার একটি সংক্ষিপ্ত টিভি ভাষণে বলেন, ‘খামেনি নেই’ এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন, তিনি মারা গেছেন।’

যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এনবিসি নিউজকে জানিয়েছিলেন, তার জানা মতে খামেনি বেঁচে আছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রায় ৫ ঘন্টা পর ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে। বার্তা সংস্থা আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তাঁর মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতা নিহত হয়েছেন।

৮৬ বছর বয়সী খামেনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া খামেনি শৈশবে মাশহাদে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরে কোম শহরে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা নেন।

১৯৬০ ও ৭০–এর দশকে তিনি শাহবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন এবং একাধিকবার গ্রেপ্তার হন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্র কাঠামোয় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৮১ সালে খামেনি ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। একই বছরে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও বিচারিক কাঠামোর ওপর তার সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব ছিল।

তার নেতৃত্বে ইরান আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বাড়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান জোরদার করে। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুমোদন দিলেও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি সতর্ক অবস্থান বজায় রাখেন।

- Advertisement -

তিন দশকের বেশি সময় দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকার ফলে তিনি ইরানের আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তার মৃত্যুর খবরে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *