ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ইশতেহারে সরকার গঠন করলে দলের কাজের অগ্রাধিকার হিসেবে ২৬টি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইশতেহারের মূল লক্ষ্য হলো যুবকদের ক্ষমতায়ন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গঠন, জুলাই বিপ্লব বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ। এছাড়াও ৪১টি ভিশন বিষয়েও দল তাদের নীতি-নির্ধারণ প্রকাশ করেছে।
ইশতেহারের প্রধান অগ্রাধিকারসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১. জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র: স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।
২. ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ: বৈষম্যহীন, মানবিক ও সুষ্ঠু সমাজ নিশ্চিত করা।
৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন: রাষ্ট্র পরিচালনায় যুব সমাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
৪. নারীর নিরাপত্তা: নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি।
৫. আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা: চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন।
৬. দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন: সৎ নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে শাসন।
৭. প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ: আধুনিক, স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠন।
৮. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: কৃষি, শিল্প ও সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমুক্ত নিয়োগ।
৯. টেকসই অর্থনীতি: ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ।
১০. সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্র: সমানুপাতিক নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ।
১১. অতীত হত্যাকাণ্ডের বিচার: রাষ্ট্রীয় খুন, গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যার সুষ্ঠু বিচার।
১২. জুলাই বিপ্লব বাস্তবায়ন: শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসন।
১৩. কৃষিতে উন্নয়ন: প্রযুক্তি ব্যবহার ও কৃষক সহায়তা বৃদ্ধি।
১৪. খাদ্য নিরাপত্তা: ভেজালমুক্ত খাদ্য এবং সবুজ, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ নিশ্চিত।
১৫. শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ: ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্পে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ।
১৬. শ্রমিকদের কল্যাণ: নিরাপদ কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের জন্য।
১৭. প্রবাসীদের অংশগ্রহণ: ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ।
১৮. সাম্যভিত্তিক নাগরিক অধিকার: সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু পার্থক্য নয়, সকল নাগরিকের সমান অধিকার।
১৯. স্বাস্থ্যসেবা: বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা।
২০. শিক্ষা সংস্কার: মৌলিক সংস্কার ও পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা।
২১. দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীলতা: প্রাথমিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থান নিশ্চিত করা।
২২. যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়ন: দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরের দূরত্ব কমানো ও আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়ন।
২৩. আবাসন সুবিধা: নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে বাসস্থান।
২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ: চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।
২৫. সামাজিক নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২৬. সুশাসন ও জবাবদিহি: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ইশতেহার অনুযায়ী সরকার গঠন করলে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
