বিটিআরসির ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) নিয়ে মতামত প্রকাশের পর এক সাংবাদিক এবং মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাকে গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংগঠনটি বলছে, যথাযথ অভিযোগ ছাড়া নাগরিককে তুলে নেওয়া আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে টিআইবি ঘটনাটিকে “অস্বচ্ছ ও জবাবদিহিহীন অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করে জানায়, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সমালোচনা দমনের ইঙ্গিত বহন করে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করে টিআইবি জানায়, এনইআইআর বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার পর সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতাকে গভীর রাতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে দীর্ঘ সময় ডিবির হেফাজতে রাখা হয়। কখনো এটিকে “তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন” বলা হয়, আবার কখনো সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহৃত পদবির বিষয় তুলে ধরা হয়—যা টিআইবির মতে পরস্পরবিরোধী ও অসত্য ব্যাখ্যা।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই ঘটনাকে কর্তৃত্ববাদী নিপীড়নমূলক চর্চার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী সমন পাঠানো এবং আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নিয়ম রয়েছে, যা স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর মতে, শুধু ব্যক্তিবদল নয়, গোয়েন্দা ও নজরদারি সংস্থার কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে নজরদারি সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে ‘নতুন বাংলাদেশ’ বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, সমালোচককে শত্রু হিসেবে দেখা আত্মঘাতী মানসিকতা। সংবাদ সম্মেলন করা কিংবা সরকারি নীতির সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়; এটি সংবিধানের ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত নাগরিক অধিকার। এনইআইআর নিয়ে মতামত দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদকে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর “কাপুরুষোচিত হস্তক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেন। টিআইবি বলছে, এ ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
