চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলের এক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (রাত সাড়ে ৮টার দিকে) উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়ার হাট এলাকার শিকদার পাড়ায়, নিজের বাড়ির পাশের রাস্তায় হামলার শিকার হন তিনি।
নিহত জানে আলম শিকদার (৫০) রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শিকদার পাড়া এলাকাতেই তাঁর বসবাস ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জানে আলম বাড়ির পাশের সড়কে হাঁটছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা একদল সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাঁর বুকে অন্তত দুটি গুলি লাগে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। হামলায় জড়িত মোটরসাইকেল আরোহীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান এবং রাউজান-রাঙ্গুনিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জানে আলম শিকদার ছিলেন যুবদলের একজন ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুসারী। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ‘বি টিম’ হিসেবে পরিচিত বিএনপি দাবিদার ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পর রাউজানে সংঘটিত ১৮টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১১ জনই তাঁর অনুসারী ছিলেন।
অন্যদিকে, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য তারেক আকবর খোন্দকার জানান, নিহত জানে আলমের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইউসুফ তালুকদারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ ছিল। তবে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় গোলাম আকবর খোন্দকারের সমর্থিত কেউ জড়িত নন।
