ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে পোলিং কর্মকর্তা ও ভোটারসহ অন্তত সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হলেও এসব আকস্মিক মৃত্যু নির্বাচনী পরিবেশে বিষাদের ছায়া ফেলেছে।
নিহতদের মধ্যে কেউ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায়, কেউ ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে এবং কেউ ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে মারা যান।
খুলনা নগরীতে একটি ভোটকেন্দ্রে মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিএনপির অভিযোগ, খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ জামায়াতের কর্মীরা তাকে ধাক্কা দিলে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান এবং পরে মারা যান। তবে জামায়াত এ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে অসুস্থতাজনিত মৃত্যু বলে দাবি করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে মহানগর বিএনপি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দায়িত্ব পালনকালে মো. মুজাহিদুল ইসলাম নামের এক পোলিং কর্মকর্তা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সাতক্ষীরার তালায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে অনাথ ঘোষের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মো. মনু মিয়া নামে এক নিরাপত্তাকর্মী অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাড়া খেয়ে পালানোর সময় রাজ্জাক মিয়া নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।
এছাড়া মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বাবু মিয়া নামের এক ভ্যানচালক এবং গাইবান্ধার সাঘাটায় ভোট দিয়ে ফেরার পথে বাছের চৌধুরী নামের এক বৃদ্ধ মারা যান। সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বার্ধক্যজনিত কারণ বা অতিরিক্ত উত্তেজনায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এসব মৃত্যু ঘটতে পারে।
উৎসবমুখর ভোটের দিনে এসব মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
